আন্তর্জাতিক 

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও আমেরিকার মধ্যে ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি হতে চলেছে?

শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিনিধি: আমেরিকা ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে অনেক এই অবস্থা থেকে মধ্যপ্রাচ্য ও ওই অঞ্চলের শান্তি স্থিতিশীলতা অক্ষুন্ন রাখার জন্য আমেরিকার ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের মধ্যস্থতার ভূমিকায় দেখা দিতে চলেছে পাকিস্তানকে। ইতিমধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশ এই চলমান যুদ্ধে পরিস্থিতিতে মধ্যস্থতা করতে চেয়েছিল। এদের মধ্যে রয়েছে ওমান তুরস্ক এবং কাতার কিন্তু এদের কথাকে সেভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে না ইরান। ইরানের বক্তব্য হচ্ছে এই তিনটি রাষ্ট্রেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেনা শিবির রয়েছে। তাই এরা মার্কিন স্বার্থকে অক্ষুন্ন রেখেই কথাবার্তা বলবে সুতরাং এদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চাইছে না ইরান।

সম্প্রতি ফিন্যান্সিয়াল টাইমস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসলামাবাদ ইরান এবং তার দুই প্রধান শত্রু যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে শান্তি স্থাপনে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে। পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের সঙ্গে তেহরানের সুসম্পর্ক এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর সঙ্গে ইসলামাবাদের উষ্ণ সম্পর্ককে কাজে লাগানো হচ্ছে।

Advertisement

এ পর্যন্ত পাকিস্তান অত্যন্ত সতর্কভাবে ইরানের বিরুদ্ধে হামলার নিন্দা জানিয়ে এসেছে এবং উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়েছে। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহে ট্রাম্প প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধি এবং ইরানি কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনার জন্য ইসলামাবাদকে সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির গত রোববার ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছেন। একই সময় প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ সোমবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান-এর সঙ্গে আলোচনা করেছেন। আলোচনার সময়ই ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো ‘নিশ্চিহ্ন’ করার হুমকি স্থগিত রাখার ঘোষণা দেন।

ট্রাম্প দাবি করেছেন যে তেহরানের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনার পর তিনি হামলার হুমকি স্থগিত রেখেছেন। তবে ইরান এই দাবিকে সরাসরি অস্বীকার করেছে। ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, কিছু আঞ্চলিক বন্ধুরাষ্ট্রের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যুদ্ধ বন্ধের আলোচনার বার্তা এসেছে। তবে ইরান তাদের মৌলিক অবস্থান অটুট রেখেছে এবং হরমুজ প্রণালি বা যুদ্ধ স্থগিতকরণের শর্তে কোনো পরিবর্তন হয়নি।

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের কালিবাফ দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল চোরাবালিতে আটকে গেছে এবং এসব গরম করা খবর ছড়ানো হচ্ছে। তিনি এটিকে ‘ভুয়া খবর’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

ফিন্যান্সিয়াল টাইমস-এর মতে, পাকিস্তানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার এবং তেহরানের মধ্যে ব্যাক-চ্যানেল আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতার চেষ্টা চালাচ্ছেন। যুদ্ধের শুরু থেকে শেহবাজ শরিফ একাধিকবার পেজেশকিয়ানের সঙ্গে কথা বলেছেন।

পাকিস্তানে কোনো মার্কিন সামরিক ঘাঁটি নেই এবং তারা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়নি। এই নিরপেক্ষ অবস্থান পাকিস্তানকে গ্রহণযোগ্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দাঁড় করিয়েছে। এছাড়া ইরানের পর বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম শিয়া মুসলিম জনসংখ্যা এবং সৌদি আরবের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি থাকায় আরব দেশগুলোর কাছেও পাকিস্তানের গুরুত্ব রয়েছে। এমনকি আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি পাকিস্তানি জনগণের প্রতি তার ‘বিশেষ অনুরাগ’ ব্যক্ত করেছেন।

রয়টার্স জানিয়েছে, সরাসরি আলোচনা না হলেও মিশর, কাতার ও উপসাগরীয় দেশগুলো বার্তা আদান-প্রদান করছে। তুরস্কও ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে যাতে একটি সংক্ষিপ্ত যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা যায়। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছেন।

যুদ্ধ চতুর্থ সপ্তাহে গড়ালেও বিশ্লেষকরা এর সাফল্যের বিষয়ে সন্দিহান। চ্যাথাম হাউস-এর সানাম ওয়াকিল জানিয়েছেন, অনেক দেশ উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করছে ঠিকই, তবে এর মানে এই নয় যে যুদ্ধ শেষ হতে চলেছে। উপসাগরীয় দেশগুলোর চাপের মুখে ট্রাম্প হয়তো পিছু হটেছেন, কারণ ইরান হুমকি দিয়েছে যে বিদ্যুৎ কেন্দ্রে হামলা হলে পুরো অঞ্চলের জ্বালানি ও পানি শোধনাগারে পাল্টা আঘাত হানবে। কোনো পক্ষই আপস করার মানসিকতা দেখাচ্ছে না এবং ট্রাম্প সহজে এই সংকট থেকে বের হতে পারবেন না।

 


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ